আখতার বিন আমির

নিজেকে বিস্ফোরিত করে দেয়ার বিধান।

প্রশ্নঃ

তথাকথিত শহীদি হামলার নামে কারও নিজেকে বিস্ফোরিত করা, কিছু সংখ্যক কাফির শত্রুকে হত্যা করার জন্য, এই বিষয়ের বিধান কি?
.

উত্তরঃ

সকল প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য। নিজেকে বিস্ফোরিত করা হচ্ছে আত্মহত্যা, যা হারাম (নিষিদ্ধ) কেননা মহান আল্লাহ্‌, বলেছেন, (আয়াতের অর্থ): “এবং তোমরা নিজেদেরকে হত্যা করোনা” [আন-নিসা ৪:২৯]।
এবং রাসুল সালাল্লাহু আইলিহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: যে ব্যক্তি কোন লোহার টুকরা দিয়ে নিজেকে হত্যা করবে, সেই লোহার টুকরা তার হাতে থাকবে, এবং সে তা দিয়ে অনন্তকাল জাহান্নামের আগুনের ভিতরে নিজের পেটে আঘাত করতে থাকবে”।
— [ স্বহীহ বুখারী , ৫৪৪২; মুসলিম, ১০৯ ]।

এর সাথে আল-উখদুদ (গর্ত) এর ঘটনার ছেলেটির কোন তুলনা করা যাবে না, কেননা সে নিজেকে হত্যা করেনি; বরং কাফের রাজা তাকে হত্যা করেছিল। এবং এর সাথে আল-বারা এর ঘটনার তুলনা করা যাবেনা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যাকে দেয়ালের ওপারে নিক্ষেপ করা হয়েছিল (দুর্গের দরজা খুলে দেয়ার জন্য), অথবা শত্রুপক্ষের মাঝখানে ঢুকে পরা সম্পর্কিত হাদিসের সাথে, একই কারণে। এই ক্ষেত্রগুলিতে জীবিত ফিরে আসার সম্ভাবনা ছিল, যা একজন মানুষ নিজেকে বিস্ফোরিত করলে থাকেনা। তদুপরি, এই ধরণের হামলা প্রায়শই একজন মানুষের মৃত্যুর কারণ হয় কিন্তু তাতে উপকার হয় খুব সামান্য বা একেবারেই হয়না, অথবা এসব কাজ নিরীহ মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়, কিংবা এরকম হামলার দরুন শত্রুপক্ষ এর চাইতে আরও অনেক কঠিন প্রতিশোধ নেয়। বেশ কিছুসংখ্যক সিনিয়র, সমসাময়িক আলেমের দেয়া ফতওয়ায় এমনটাই উল্লেখ আছে।
.

প্রখ্যাত আলিম, ইমাম আব্দুল আল-আজিজ ইবনে বাজ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: যে ব্যক্তি কিছুসংখ্যক ইহুদিকে হত্যা করার জন্য নিজেকে বিস্ফোরিত করে, তার ব্যাপারে বিধান কি?

তিনি উত্তরে বলেন: “আমার মনে হয়, এবং আমি একাধিকবার এই কথা বলেছি, যে এটা গ্রহণযোগ্য না। কারণ এ হচ্ছে নিজেকে হত্যা করা। এবং আল্লাহ্‌ বলেন (আয়াতের অর্থ): “এবং তোমরা নিজেদেরকে হত্যা করোনা” [আন-নিসা ৪:২৯] এবং রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: যে নিজেকে কোন কিছু দিয়ে হত্যা করবে তাকে পুনরুত্থান দিবসে তা দিয়েই শাস্তি দেয়া হবে”। বর্ণনায়, আল-বুখারি, ৫৭০০; মুসলিম, ১১০। যখন নয়্যসঙ্গত জিহাদ থাকে, তখন সে মুসলিমদের সাথে থেকে জিহাদে সংগ্রাম করতে পারে, আর সে যদি নিহত হয়, তাহলে প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য। কিন্তু সে যদি নিজেকে হত্যা করে, নিজের শরীরের সাথে বিস্ফোরক বেঁধে, যাতে করে সে তাদের সাথে নিহত হয়, তা হবে ভুল এবং অগ্রহণযোগ্য।

► বক্তব্যের লিংকঃ http://www.youtube.com/watch?v=hciR4pl-odk
.

প্রখ্যাত ফাফ্বীহ, ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে সালিহ আল-উসাইমিন (রাহিমাহুল্লাহ) –কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল আত্মঘাতী হামলার শরয়ী হুকুমের ব্যাপারে।

তিনি জবাবে বলেন: “আমরা মনে করি যে এমন আত্মঘাতী হামলা যেখানে একজন মানুষ নিশ্চিত যে সে মারা যাবে, তা হারাম; বরং তা বড় গুনাহের অন্তর্ভুক্ত, কেননা রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “যে নিজেকে কোন কিছু দিয়ে এই দুনিয়াতে হত্যা করবে তাকে পুনরুত্থান দিবসে তা দিয়েই শাস্তি দেয়া হবে”।
—[ স্বহীহ বুখারী, ৫৭০০; মুসলিম, ১১০ ]।

তিনি এর কোন ব্যতিক্রম উল্লেখ করেননি; বরং এর প্রয়োগ হবে সর্বব্যাপি। তদুপরি আল্লাহ্‌র জন্য জিহাদের উদ্দেশ্য হল ইসলাম ও মুসলিমদের সুরক্ষা, কিন্তু যে আত্মঘাতী হামলাকারী সে নিজেকে ধংস করে দিচ্ছে এবং আত্মহত্যার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর একজন সদস্য কমিয়ে দিচ্ছে। তাছাড়াও, এর দ্বারা মানুষের ক্ষতিসাধন করা হচ্ছে, কারণ শত্রুপক্ষ (এর প্রতিশোধ নিতে) শুধুমাত্র একজন ব্যক্তিকেই হত্যা করবে না; বরঞ্চ তার কারণে তারা যতখানি সম্ভব বেশী মানুষকে হত্যা করবে। তদুপরি, এর দ্বারা মুসলিমদের উপর চাপ সৃষ্টি হবে এই আত্মঘাতী হামলাকারীর কারণে যে কিনা শুধুমাত্র দশ, বিশ কিংবা তিরিশ জনকে হত্যা করেছে। সুতরাং এর ফলে মুসলিমদের উপর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি নেমে আসবে, যেমনটা এখন হচ্ছে ফিলিস্তিনি এবং ইহুদীদের ক্ষেত্রে।

যারা বলছে যে এই কাজের অনুমতি রয়েছে তাদের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন; বরং এটা ভুল অবস্থানের উপর প্রতিষ্ঠিত, কারণ এর দ্বারা যা কিছু অর্জিত হয় তার বিপরীতে এর ক্ষতি অনেক বেশী। আল-ইয়ামামার অভিযানে আল-বারা ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর ঘটনায় তাদের এর পক্ষে কোন দলিল নেই, যেখানে তিনি তার সঙ্গীদেরকে বলেছিলেন যে তারা যেন তাকে দেয়ালের উপর দিয়ে ছুড়ে দেয় যাতে করে তিনি তাদের জন্য দরজা খুলে দিতে পারেন। আল-বারার কার্যাবলিতে তার মৃত্যু নিশ্চিত ছিলনা; সুতরাং তিনি বেঁচে যান এবং তাদের জন্য দরজা খুলে দেন। এবং লোকেরা দুর্গে প্রবেশ করে। সুতরাং এই ঘটনার মধ্যে কোন দলিল নেই।

► উদ্ধৃতির সমাপ্তি, [ মাজমু ফাতাওয়া ওয়া রাসা’ইল আল-উসাইমীন, ২৫/৩৫৮ থেকে ]

বরং তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) মাজাল্লাত আদ-দা’ওয়াতে তার ফতোয়ায় বলেছেন (১৪১৮ হিজরি), যখন তাকে এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: আমার মতামত হচ্ছে যে এমন ব্যক্তি নিজেকে হত্যা করছে এবং তাকে জাহান্নামে শাস্তি দেয়া হবে নিজেকে হত্যা করার জন্য।, যেমনটা বলা হয়েছে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর থেকে বর্ণিত এক সহিহ হাদিসে।
এবং আল্লাহ্‌ই সবচেয়ে ভালো জানেন।
.

গৃহীত :শাইখ মুহাম্মাদ ছালেহ আল মুনাজ্জিদ।
► সোর্সঃ https://islamqa.info/en/217995
.

ভাষান্তর : আবু আবরার।
সম্পাদনা : আখতার বিন আমীর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *